Description
সজনে পাতার গুনাগুন:
সজনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে পুরয়েছে। এতে ভিটামিন এ, সি, এবং ই, পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, এবং প্রোটিনের উচ্চ মাত্রা রয়েছে। বিশেষ করে, ভিটামিন এ-এর উপস্থিতি এটি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক করে তোলে। এছাড়াও, এই পাতা দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি সাধারণত ভাজি, স্যুপ, এবং বিভিন্ন ধরনের তরকারিতে ব্যবহৃত হয়। সজনে পাতার ভাজি গ্রামীণ বাংলার একটি পরিচিত খাবার। এটি শুধু খাবারের স্বাদই বাড়ায় না, বরং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
সজনে পাতার উপকারিতা:
১. সজিনা পাতায় দুধের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। তাই এটি হাড় ও দাঁতের সুস্থতার জন্য উপকারী।
২. সজিনার তেল এবং সজিনা পাতার গুঁড়ো ত্বকের ক্ষত, বলিরেখা, কুঁচকানো ভাব, বলিরেখা ও বিভিন্ন দাগ-ছোপ দূর করে ত্বকের সামগ্রিক ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
৩. সজিনার তেলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকায় এটা ব্যবহার করলে ব্রণর সমস্যা দূর হয়। তবে ব্যবহারের আগে একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া অবশ্যই প্রয়োজন।
৪. মূলের ছাল নাশক, হজম বৃদ্ধিকারক এবং হৃদপিন্ড ও রক্ত চলাচলের শক্তিবর্ধক হিসাবে কাজ করে।
৫. এতে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক থাকে এবং পালংশাকের চেয়ে তিন গুণ বেশি আয়রণ বিদ্যমান, যা এ্যানেমিয়া দূরীকরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
৬. সজিনা চা শরীরের প্রতিরোধক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করে। শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য, ভারি ধাতু অপসারণ এবং শরীরে রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি নিতে সহায়তা করে।
৭. সজিনা পাতা অ্যান্টি–অক্সিডেন্টে ভরপুর। তাই এটি পুরুষের যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৮. সজিনা পাতার রস হৃদরোগ চিকিৎসায় এবং রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যবহার হয়।
৯. সজিনা চায়ে প্রায় ৯০টিরও বেশি উপাদান এবং ৪৬ রকমের এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। এতে ৩৬ টির মত এন্টি-ইনফ্ল্যামমেটরি বৈশিষ্ট্য আছে। এছাড়াও এটি অকাল বার্ধক্যজনিত সমস্যা দূর করে এবং ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১০. সজিনা পাতায় প্রচুর ফাইবার থাকে এবং এতে ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড থাকে, যা স্বাভাবিকভাবে ওজন কমাতে ও শরীরে জমে থাকা চর্বি কমাতে সাহায্য করে। তাই ওজন কমানোর জন্য সজনে-চা খুব উপকারী ভূমিকা পালন করে।
১১. সজিনা পাতায় বায়োটিন, ভিটামিন বি৬, ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন ই ও ভিটামিন এ থাকে, যা চুল পড়া বন্ধ করে। এ ছাড়া এটি চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুলকে প্রাণবন্ত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হতে সাহায্য করে।
১২. সাজিনার শিকড় কাশি, হাঁপানি, গেটে বাত, সাধারণ বাত রোগে দুধের সাথে ব্যবহার হয়।
১৩. সাজিনার পাতা বেটে রসুন, হলুদ, লবন ও গোলমরিচ সহ খেলে ফোলাভাব কমে যায় ও জ্বরে আরাম হয়।
১৪. প্রতি ১০০ গ্রাম সজিনা পাতায় একটি কমলার চেয়ে প্রায় সাত গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। তাই এটি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং ইনফেকশন কমাতে সাহায্য করে
১৫. সজিনার তেল ঠোঁটের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এ তেল ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
সজনে পাতা (মরিঙ্গা পাউডার) খাওয়ার নিয়ম :
- খালি পেটে খাওয়া: সকালে খালি পেটে এক গ্লাস পানিতে ১ চামচ সজনে পাতা গুড়া মিশিয়ে খাওয়া ভালো। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়াতে সাহায্য করে এবং সারাদিনের শক্তি যোগায়।
- খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়া: সজনে পাতা গুড়া স্যুপ, সালাদ অথবা ডাল ভাতের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এটি খাবারের স্বাদ বাড়ায় এবং পুষ্টিগুণ যোগ করে।
- হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে: সজনে পাতা গুড়া গরম পানিতে মিশিয়ে চা হিসেবে খাওয়া যেতে পারে। এটি সর্দি, কাশি, এবং ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।


Reviews
There are no reviews yet.